দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর ইঙ্গিতের পর ফরিদপুর বিভাগসহ গোপালগঞ্জ জুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে গোপালগঞ্জ-১ (কাশিয়ানী-মুকসুদপুর) আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের নাম। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় তিনি স্থান পেতে পারেন—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের দাবি, সেলিমুজ্জামান সেলিম একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ এবং সততার প্রতীক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা, মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে সক্ষম হবেন। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ, নিষ্ঠা ও তৃণমূলভিত্তিক নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।

স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ও মানবিক ভূমিকার কারণে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন বলেও মনে করেন অনেকে।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সেলিমুজ্জামান সেলিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনেট সদস্য, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
১৯৯৮ সাল থেকে প্রায় ২৫ বছর ধরে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। সময়ের পরিক্রমায় তিনি সংগঠনের একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করা এবং দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর কারণে তার প্রতি কর্মীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আরও গভীর হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
তবে তার রাজনৈতিক পথ সহজ ছিল না। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিতে আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তারা।
গোপালগঞ্জ-১ আসনের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
মুকসুদপুর পৌরসভার বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সবসময় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন এবং দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে কাজ করার চেষ্টা করেন।’
বরাশুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইকরামুজ্জামান মোল্যা ওরফে ইয়ার মোল্লা বলেন, ‘কাশিয়ানী-মুকসুদপুরবাসীর প্রাণের দাবি হচ্ছে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা। তিনি সততা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে রাজনীতি করেন এবং দলমত নির্বিশেষে জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও শিল্প খাতে তার অবদান সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত। মন্ত্রী হলে তিনি জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
কাশিয়ানী এম এ খালেক কলেজের অধ্যক্ষ কে এম মাহমুদ বলেন, ‘গোপালগঞ্জ জেলায় বর্তমানে কোনো মন্ত্রী নেই। অথচ এই জেলা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই বিএনপি জয়লাভ করেছে। তাই এ অঞ্চল থেকে একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেলিমুজ্জামান সেলিম শিক্ষিত, দক্ষ ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্বের অধিকারী। তাকে মন্ত্রী করা হলে গোপালগঞ্জসহ ফরিদপুর বিভাগের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিচ্ছন্ন ও জনসম্পৃক্ত নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করলে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। সেই বিবেচনায় সেলিমুজ্জামান সেলিমের নাম আলোচনায় থাকাটা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন তারা।
স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার সেলিমুজ্জামান সেলিমকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেবে।
/অ